326>ইলশে গুঁড়ির ইলিশ- +||-(1--5)|
বর্ষায় মজলিস,
খাবার পাতে ভাল ইলিশ।
ইলশে গুঁড়ি, ইলশে গুঁড়ি, ইলিশ মাছের ডিম,
নাম শুনলেই জিভেজল বুক ঢিব ঢিব।
রূপে রসে গন্ধে মন আনন্দে তাধিনা ধীন।
বর্ষার ইলিশের মজলিস,
ইলিশ ভাজা খান দশ পিস।
সকাল বেলাই পেট সাফ,
থাকবেনা কোন ফুস ফিস।
পদ্মার বা মেঘনার ইলিশের স্বাদ,
তুলনা বিহীন অপরূপ গন্ধ ও স্বাদ।
বাংলার ইলিশের নাই জবাব,
ইলিশ মাত্রেই হার্ট মজবুত পেট সাফ।
সব মাছ যেমন তেমন ইলিশ চেনা ভার,
চন্দনাকে ইলিশ ভেবে খেয়ে ধুত কার।
ইলিশ চেনা ও রান্না করা জানা দরকার,
ইলিশের করবে বদনাম সহ্য হবে কার।
হিরা চেনে জহুরী ,ইলিশ চিনি আমি,
ইলিশের নামে চলে হেরাফেরি।
ইলিশ রুপালি মাছ সমুদ্রেই তারবাস,
গঙ্গায়,পদ্মার,মেঘনায়,এলেই বাড়ে স্বাদ।
ওরা থাকে গভীর সমুদ্রের জলের তলে
তখন তাদের ধরতে পারাই দুষ্কর।
ওদের বিশেষ খাদ্য জলজ শ্যাওলা,
তাই খেয়েই হয় যুবতী রূপসী ললনা।
শরীরে জমে যায় এক বিশেষ স্নেহ পদার্থ,
যা হলো ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড যথার্থ।
ফলে রূপের যৌলসে বাড়ন্ত যৌবন,
যৌনমিলনের তাড়নায় অস্থির মন।
বহু পথ পরিদিয়ে বহু উজান ঠেলে,
মিলনের তাগিদে চলে আসে নদীতে।
নদীর মোহনায় ঝাঁকে ঝাঁকে দলবেঁধে,
ঢুকেপরে নদীতে মিষ্টি জলের তাগিদে।
তারপর রিমঝিম বৃষ্টিতে ডিম পাড়ে,
পোনারা নদীতেইএকটু একটু বাড়ে।
একটু বড় হলেই যেতে চায় সমুদ্রে,
নিজেরা রূপ যৌবনে পূর্ন হতে।
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড বড়ই দুর্লভ এটি,
অন্য কোন মাছেই পাওযা যায়না এমনটি
তাই বুঝি ইলিশের এত কদর, অনন্য স্বাদ।
হৃদরোগী,ছোটশিশু ও খেতে পারে এই মাছ।
শুনেছি বাবা ঠাকুরদা বলতেন
তাঁরা ইলিশের বিষয় অনেক জানতেন।
ইলিশ খাওয়া সরস্বতীপুজোর দিনে শুরু,
আর ঐ লক্ষ্মীপুজোর দিনে শেষ।
আশ্বিন, মাঘ ইলিশ খাওয়া ছিল মানা,
এর বিজ্ঞানসম্মত কারণটি আছে জানা।
কারন এই বিশেষ মাছকে সংরক্ষণ করা।
মাছের রাজা ইলিশ কে বাড়তে দেওয়া।
বৈশাখ জ্যৈষ্ঠে যুবতী মাছ গর্ভবতী হয়,
বর্ষার জল পেয়ে,সুন্দর মনরম নধর হয়।
আর গুটিগুটি সেই পোয়াতি মাছ দলবেঁধে,
সাঁতরে সাঁতরে জোয়ারের এগিয়ে চলে।
উজানে যত নদীর দিকে এগিয়ে চলে,
তত শরীর থেকে নুন আয়োডিন ঝরে।
আয়োডিন নুন ঝরে ঝরে মিষ্টতা বাড়ে,
তাইত ইলিশ দিনে দিনে স্বাদ গুন বাড়ে।
তারপর বর্ষার ধরা দেয় জালে,
বাকী সময় থাকে গভীর জলে।
এই রুপালি শস্যের আসা যাবার কালে,
তারা বন্ধি হয়ে আসে আমাদের ঘরে।
আইনত আছে অনেক,
ইলিশের নামে ছোট ইলিশ ধরা যাবে না।
গর্ভ বতী মা ইলিশ ধরা জানে না।
ইলেকট্রিক জাল ব্যবহার করা যাবে না।
কিন্তু আজকাল কে মানে কার বারণ।
মাছ ধরার নাই কোন কঠোর শাসন।
হয়তো আছে অনেক আইন,
যত আছে আইন ফাঁক তার দ্বিগুন।
পদ্মার বরিশাল ও মেঘনায় চাঁদপুর,
সেই ইলিশ আজ আর নাই ভরপুর।
নদ-নদী ও মোহনা বর্জ্য দূষনে ভরা,
এবং ছোট ইলিশ ধরে নিচ্ছি আমরা।
আমাদের নিজেদের খাদ্যের স্বার্থে,
রক্ষা করতে হবে ইলিশ সম্পদ।
নয়ত খুব শীঘ্রই হারিয়ে যাবে এমন সুস্বাদু,
স্বাস্থ কর রূপালী ইলিশ সম্পদ।
<--©--●অনাথ●--->
【--anrc-11/07/2018--】
【03:10:12==76 L=】
=============================
2>|| ইলিশের লাশ ||fb
<--আদ্যনাথ-->
বাজার সেরা রূপালী সোনা,
পদ্মা গঙ্গার জীবন্ত সোনা।
বর্ষায় বাঙালির জিভের লালসা,
ইলিশের স্বপ্ন, সুপ্ত মনের পিপাসা।
বাজারে ইলিশের অভাব,
ভোজন রসিকদের মাথায় হাত।
বরফে ঢাকা চালানি মরা ইলিশ মাছ,
পচা-বাসির জন্যই কতো উৎচ্ছাস,
ইলিশের অভাবে হাহাকার,
ধনী আর লোভীদের বাড়ন্ত অহঙ্কার।
হোকনা বাসি-পচা বরফে ঠাসা,
তবুও খাবার পাতে ইলিশেই মজা।
জলের রুপালি শস্য ইলিশ মাছ,
আমাদের দম্ভ আর অহঙ্কারের মাছ।
কাটার ভয়ে একটু সামলে খেতে হয়,
তবুও ইলিশের গন্ধেই মহা ভোজ হয়।
বর্ষার দিনে খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা,
খতে খেতে নিজেকে মনে হয় মহারাজা।
গরম ভাতে ইলিশ ভাজার তেল,
সর্ষে ইলিশ আর ইলিশ নারকেল।
ইলিশের নানান রকমের রসনা,
বৎসর ভর থাকে সুপ্ত মনের বাসনা।
বাংলা দেশের "কাঁচা ইলিশের" লোভে,
বরফের পঁচা গলাটাই বেশি জোটে।
ইলিশের হরেক রেসিপি সবার পছন্দ,
ইলিশ খাবার গল্প বলেও আনন্দ।
যদিহয় বাংলা দেশের বড় ইলিশ,
খুশির মেজাজে জমে মজলিশ।
ইলিশে মানে অহঙ্কারের লোভ বেশি,
একটু দামি তাই অহঙ্কার বোধও বেশি।
স্বাদে গন্ধে যেমনি হোক কাটায় ভরা,
ইলিশ মানেই দম্ভ আর অহঙ্কারে ভরা।
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
09/09/2021;;05:15:15pm
===========================
3>|| কাঁচা ইলিশ || fb
"কাঁচা ইলিশ" ---ইলিশ সাধারণত ঠাণ্ডা ঘর থেকেই বাজারে আসে।
কিন্তু
যখন প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ে জালে তখন শহরের বাজার ভরে যায় ইলিশে। ঠাণ্ডা ঘরের মাছ নয়, এগুলো সবই টাটকা ইলিশ।মাছ ব্যবসায়ীরা যাকে বলে "কাঁচা ইলিশ"। দাম একটু বেশি থাকে বটে, তবে
দামটা বেশি হলেও ক্রেতারা ইলিশ কিনতে পিছপা হন না। কম করে হলেও রবিবাসরীয় মেনুতে ইলিশ রাখতে ইচ্ছা করেন সকলে।
তবে অসৎ ব্যবসায়ীরা বরফের বাসি পঁচা
ইলিশকে " কাঁচা ইলিশ" বলে বিক্রি করে দেয়।
একেতো ভালো ইলিশ চেনাই বড় দায়
তার উপরে "কাঁচা ইলিশ" যদি কিনতে হয় তবে ঠগে যাবার চিন্তাই বেশি হয়।
<---আদ্যনাথ-->
============================
9/9, 5:41 PM ShankarDam: সত্যিই ইলিশের কথা বলে আপনি লোভ লাগিয়ে দিচ্ছেন । এখানে অনেক চেষ্টা করেও ইলিশ যোগাড় করতে পারছি না । মলে মাঝে মাঝে পাওয়া গেলেও সেই বাসিপচা কাঠশক্ত । দেখলে পছন্দ হয়না ,অথচ দাম ২০০০/২২০০ টাকা কিলো । ভালো হলে টাকার ভাবনা করিনা । কিন্তু ভালো মাছ মেলা ভার । ২/৩ টে মলে ফোন নম্বর দিয়ে রেখেছি , ভালো মাছ এলেই খবর দেবে । কিন্তু সেই খবর যে কবে পাব কে জানে ?
[9/9, 5:59 PM] Adyanath Roy Choudhuri: ভালো কিছুর আশা করে প্রতীক্ষায় দিন গোনা ও ধর্যের পতিক্ষা।
শুভ হোক আপনার প্রতীক্ষা।
তাড়াতাড়ি হোক আপনার রমনার তৃপ্তি পূরণ।
আজ ইলিশ মাছ খাওয়া নিয়ে একটু কথা হোক।
এই বর্ষায় গরম ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা,
অথবা ইলিশের যে কোন আইটেম মন মাতিয়ে দেয়।
বর্ষা ছাড়াও নানান অনুষ্ঠানে ইলিশের আদর অনেক যেমন ----
আমি অনেক বাড়িতেই দেখেছি,
এমনকি আমার শ্বশুর বাড়ি টাটা জামশেদ পুরেও দেখেছি,
সরস্বতী এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোতে জোড়া ইলিশের পুজো ।
জোড়া ইলিশ মাছ কে সাজিয়ে কুলোতে করে ধানদুব্বো,
তেল-সিঁদুর মাখিয়ে বরণ করে নতুন শাড়ি পরিয়ে
ঘরের বড় বৌ মাথায় করে কুলো তে সাজিয়ে
ইলিশ মাছের পুজো করে । জোড়া ইলিশ ঘরে তুলে , নান্না করতেন।
পুজোর পর জমিয়ে ইলিশমাছ ও ভোগ খাওয়া হতো।
তখন শুনতাম বলা হত সরস্বতীপুজোর দিনথেকে ইলিশ মাছ খাওয়া শুরু ।
আর ঐ লক্ষ্মীপুজোর দিনে শেষ।
মধ্যিখানে আশ্বিন থেকে মাঘ অবধি আর ইলিশ খাওয়া যাবেনা।
এই বাধা নিষেদের কারন একটাই ইলিশ সংরক্ষন।
তাই আমার কাছে স্বরসতী পুজো মানেই
মুড়ির মোয়া, চিরের মোয়া, নারকেল নাড়ু।
আর দুপুরে খাবার পাতে ইলিশের দুই চার রকমের আইটেম।
আমাদের বাড়িতে বা শ্বশুর বাড়িতে
জানাই ষষ্ঠী হতনা তথাপি একবার আমি ঐ জামাই ষষ্ঠীতে
সাকচি বাজার থেকে জোড়া ইলিশ কিনে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে ছিলাম।
সকলে হাস হাসি করলেও বেশ মজা করেই খাওয়া হয়ে ছিল ইলিশের নানান পদ।
শ্বশুরি র ইহলোক গমনের পর থেকে আর ইলিশ খাইনি শ্বশুর বাড়ি তে।
শ্বশুর বাড়িতে শ্বাশুড়ি যতদিন জামাইয়ের আদর ও তত দিন।
বরিশালে দেখেছি--
লবণ কাটা ইলিশ জমা করতো।
দুঃসময়ে উপাদেয় লবণ কাটা ইলিশের চচ্চরি খেতো।
লবন কাটা ইলিশের স্বাদ কিন্তু অন্য্ রকম।
বেশ মজাদার মনে হতো।
ছোট বেলায় শুনেছি ---
লোকেরা বলতো ইলিশ মানুষের লাশ খায়।
নদীতে ভেসে যাওয়া সকল পশুর লাশ খায়।
খাকনা তাতে কি আসে যায়।
ইলিশ খেতে ভাল বাসী তাই ইলিশ খাই।
ইলিশ কিখায় তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নাই।
এক ইলিশ তার কতো রকমের রেসিপি
অন্তত যেগুলির স্বাদ আমি পেয়েছি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে-------
গরমে তো আছে পান্তা ইলিশ,বৃষ্টির দিনে --- ইলিশের কোরমা,
ইলিশের মাখানি, বেকড ইলিশ,ইলিশ ভাপা, ইলিশের মাথা দিয়ে কচু,
দই ইলিশ,ইলিশ কাবাব, সাদা ইলিশ,ভাজা ইলিশ, গ্রিল ইলিশ,
নোনা ইলিশ ভুনা,ইলিশের ঝোল,ইলিশের ঝাল,ইলিশের করি,সর্ষে ইলিশ,
আস্থা ইলিশ ভাজা,ইলিশ পোলাও, ময়ানে ভাজা ইলিশ,লেবু ইলিশ,
অরেঞ্জ ইলিশ, ইলিশের কোপ্তাকারি, ইলিশ কাসুন্দি,ভাতে ভাপা ইলিশ,
ভাপা ইলিশ,ইলিশ পাটুরি,কাটা গলানো ইলিশ, টক মিষ্টি ইলিশ,
স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাই করি,আচার ইলিশ,আমরা ইলিশ,আম ইলিশ,
তেঁতুল ইলিশ, ইলিশ পোস্ত, মাখন ইলিশ,লঙ্কা ইলিশ,।ইলিশের মুইঠা,
এবারে বলি বাজারে গিয়ে কিভাবে ইলিশ চিনব---
ইলিশ চেনার কিছু ট্রিপস--
আসল ইলিশ চেনার উপায়--( এই জায়গায় কিছু অংশ সংগৃহিত)
"খানিকটা ইলিশের মতোই দেখতে সার্ডিন বা চন্দনা মাছ।
অসাধু মাছ বিক্রেতা আপনাকে সার্ডিন মাছকে ইলিশ বলেই ঠকিয়ে দেবে।
শুধু এরাজ্যেই নয়, মিথ্যের কারবার শুরু হয়েছে ইলিশের ‘পীঠস্থান’ পদ্মাপাড়েও।
হ্যাঁ, বাংলাদেশেও ইলিশের নামে সার্ডিন বা
চন্দনা বিক্রি করে চলছে ঠকানোর কারবার।( সংগ্রহীত )
দেখে নেওয়া যাক সার্ডিন ও ইলিশ চেনার উপায়:
ইলিশ মাছ উল্টে পাল্টে ভাল করে দেখুন -–
নিজের হাতে মাছ পরখ করুন। ---
1> সার্ডিনের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু এবং
পিঠের দিকের চেয়ে পেটের দিক অপেক্ষাকৃত উত্তল ও চ্যাপ্টা। ( সংগ্রহীত )
2> ইলিশের দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু, পিঠের ও পেটের দিক প্রায় সমভাবে উত্তল।( সংগ্রহীত )
3>সার্ডিনের দৈর্ঘ্য সাত সেন্টিমিটার থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ইলিশ বেশ বড় (৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত) হয়ে থাকে। ( সংগ্রহীত )
4> সার্ডিনের মাথার আকৃতি ছোট ও অগ্রভাগ ভোঁতা।
ইলিশের মাথার আকৃতি লম্বাটে ও অগ্রভাগ সূচালো।( সংগ্রহীত )
5> সার্ডিনের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং পুচ্ছ পাখনার কিনারা ঘোলাটে।
ইলিশের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগে এবং
পুচ্ছ পাখনার কিনারা অনেকটা ফ্যাকাশে।( সংগ্রহীত )
6> সার্ডিনের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে বড়।
আসল ইলিশের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে ছোট।"( সংগ্রহীত )
সেই জন্য ইলিশ চেনার সহজ উপায় ইলিশের চোখ ও আকৃতি।
ইলিশ হবে দেহ পার্শ্বীয়ভাবে পুরু, পিঠের ও পেটের দিক প্রায় সমভাবে উত্তল।
ইলিশের মাথার আকৃতি লম্বাটে ও অগ্রভাগ সূচালো।
আসল ইলিশের চোখের আকৃতি তুলনামূলকভাবে ছোট।
সে যাই হোক
এবারে বলি কিছু ইলিশের আইটেম-----
ইলিশ মাছ আগে জলে ধুয়ে তার পরে কাটতে হয়।
জলে ধুয়ে নিয়ে এই মাছ কাটার রীতি নয়ত স্বাদ নষ্ট হযে যায়।
আইটেমের নাম যেগুলি আমার ভাগ্যে জুটে ছিল।
ইলিশের আইটেম বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে ইলিশ পান্তা।
বাংলাদেশের পান্তা-ইলিশ -- ইলিশ মাছের সাথে পান্তা ভাত ও শুঁটকি মাছ,
আঁচার, ডাল, কাচা লঙ্কা, এবং পিয়াঁজ কুঁচির সংমিশ্রণের এই খাদ্যটি
পয়লা বৈশাখ এর উৎসবের জনপ্রিয় খাদ্য ।
কত রকমের ইলিশ রান্না খেয়েছি সে সকল
বলতে গেলে এক ইতিহাস তৈরী হয়ে যাবে।
ইলিশ পান্তা, শর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাজা, ইলিশ মরি, কাচ কলায় ইলিশ রান্না, শাপলার সাথে ইলিশ, ইলিশের মাথা দিয়ে কচু শাক, সব প্রয়োজনে ইলিশ। ভাবতেই ভালো লাগে, এখনো জিভ লক লক করে উঠে।
ভাতের হাঁড়ির মুখে কৌটো বন্দী ইলিশভাপা।
আমিতো দেখেছি
নিউইয়র্ক,লন্ডন,বাঙালি যেখানে আছে, ইলিশও সেখানে পৌঁছে গেছে।
বাঙালির সাথে ইলিশের সম্পর্কে গভীর ও মনরম।
বাঙালি অথচ ইলিশ খায়না এমন বিচিত্র মানুযাস আমি দেখিনি।
ইলিশ মাছে অত্যাধিক কাটা।
এই কাটার ভয়েই অনেকে ইলিশ খেতে ভয় পায়।
আমি আমেরিকার নিউইয়র্ক এ দেখেছি এক বাঙালি
নাম অনিন্দ উনি কাটা চামচ ছাড়া হাত দিয়ে কিছুই খায় না,
কোলকাতারই মানুষ।
এখন নিউইয়র্কের বাসিন্দা ওনাকে দেখেছি ইলিশ খুব ভাল বসে।
আবার অনেকে গাদা লেজা যাই দেয়না কেন
উনি কাটা চামচ দিয়ে সুন্দর খেতে পারেন ইলিশ।
অতএব ইলিশ যে ভালবাসে তার কাছে কাটা কোন সমস্যাই নয়।
এই বর্ষায় গরম ভাতের সঙ্গে।
টিফিনকৌটোর মধ্যে বন্দী ইলিশমাছের ভাতে বা ভাপা। হলুদ পড়বেনা এই পদে।
টাটকা মাছের গন্ধ নষ্ট হয়ে যাবে।
কৌটোর মধ্যেই নুন মাখানো ইলিশের গাদা-পেটি সর্ষে, কাঁচালঙ্কা বাটা,
কাঁচা সর্ষের তেল আর বেশ কয়েকটি চেরা কাঁচালঙ্কার সাথে মেখে
ভাত ফোটবার সময় হাঁড়ির মুখে মিনিট দুয়েক রেখে দিলেই এই অমূল্য পদ তৈরী।
আবার
হাঁড়ির মুখে কচুপাতার মধ্যে মাছগুলিকে ম্যারিনেট করে পাতাটি সুতো দিয়ে বেঁধে
ভাত ফোটবার সময় হাঁড়ির মুখে রাখা সে ভাপা ইলিশের অন্য স্বাদ।
লাউপাতায় মুড়ে পাতুড়ির মতন। কাঁচা তেল ও লঙ্কা দিয়ে ভেজে ফোড়ন দিয়ে ঝাল।
গায়ে মাখামাখা হলুদ সর্ষেবাটার ঝাল,
বেগুন দিয়ে কালোজিরে, কাঁচালঙ্কা ফোড়ন দিয়ে পাতলা ঝোল.
টাটকা ইলিশ নাকি একরকম আর এই নোনা ইলিশ নাকি আরেক রকম। অনেকদিন রেখে খাওয়া যায়।
" বর্ষার ক্ষুধামান্দ্য কাটাতে, ডিপ্রেশান কাটাতে ইলিশের জুড়ি নেই।
ছ্যাঁচড়া, অম্বল, কচুশাক দিয়ে ইলিশমাছের সব পদই সমান তালে রাঁধতেন জমিয়ে। আর বলতেন, যতদিন না দুগ্গাপুজো আসছে বর্ষায় হয় দুগ্গারুচি। দুর্গার জন্য উতলা, পুজোর জন্য এই পথ চাওয়ার প্রতীক্ষা আর একঘেয়ে খাওয়াদাওয়ার অরুচির দাওয়াই হল ইলিশ মাছ। এখন শুনছি ডাক্তারবাবুরাও এইকথা বলছেন....."যতদিন পারুন এই মাছ খেয়ে নিন। এ হল সোনার গৌর। একবার ছেড়ে দিলে আর পাবেন না। হৃদমাঝারে লালন করুন একে। হার্ট ভাল থাকবে, মন ও ভাল হবে' ।" ( সংগ্রহীত )
গরমে তো আছে পান্তা ইলিশ,
বৃষ্টির দিনে --- কোরমা ইলিশ,
ইলিশের মাখানি, বেকড ইলিশ,
ইলিশের মাথা দিয়ে কচু, ভাপা ইলিশ ,
দই ইলিশ,ইলিশ কাবাব, সাদা ইলিশ,
ভাজা ইলিশ, গ্রিল ইলিশ,
নোনা ইলিশ ভুনা,ইলিশের ঝোল,ইলিশের ঝাল,
ইলিশের করি,সর্ষে ইলিশ, আস্থা ইলিশ ভাজা,
ইলিশ পোলাও, ময়ানে ইলিশ ভাজা,
লেবু ইলিশ, অরেঞ্জ ইলিশ, ইলিশের কোপ্তাকারি,
ভাতে ভাপা ইলিশ, ভাপা ইলিশ,ইলিশ পাটুরি,
কাটা গলানো ইলিশ, টক মিষ্টি ইলিশ,
স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাই করি,
আচার ইলিশ,আমরা ইলিশ,আম ইলিশ,
তেঁতুল ইলিশ, ইলিশ পোস্ত, মাখন ইলিশ,
ইলিশের মুইঠা,ইলিশ কাসুন্দি,লঙ্কা ইলিশ,।
------------------
"কথায় বলে হালকা হাওয়া দেবে, ঝিরঝির করে অবিরাম ইলিশেগুঁড়ি বৃষ্টি পড়তেই থাকবে আর ঠিক তখনি ঝাঁকেঝাঁকে গভীর জলের এই ইলিশমাছ সমুদ্রের নোনা জল সাঁতরে, জোয়ারের অনুকূলে স্বল্প পরিশ্রমে, নদীর কাছে আসবে,"
চাই নদী গুলি ও মোহনার সংস্কার করা
জাটকা ( ছোট ইলিশের ) ধরা বন্ধ করা।
আমাদের নিজেদের খাদ্যের স্বার্থে
রক্ষা করতে হবে ইলিশ সম্পদ।
নয়ত খুব শীঘ্রই হারিয়ে যাবে এমন সুস্বাদু
স্বাস্থ কর রূপালী ইলিশ সম্পদ।।
" সরস্বতীপুজোর দিনথেকে ইলিশ মাছ খাওয়া শুরু ।
আর ঐ লক্ষ্মীপুজোর দিনে শেষ।
এর বিজ্ঞানসম্মত কারণটি হল মাছকে সংরক্ষণ করা। মাছকে আকারে বাড়তে দেওয়া।বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠের মধ্যে যুবতী থেকে গর্ভবতী হয়ে তবে সে বর্ষার জল পেয়ে নধর হবে। আর গুটিগুটি সেই পোয়াতি মাছ সাঁতরে সাঁতরে জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল থেকে যত নদীর দিকে এগিয়ে আসবে তত তার শরীর থেকে আয়োডিন আর নুন ঝরে ঝরে মিষ্টতা বাড়বে। সেই অর্থে ইলিশ হল পরিযায়ী মাছ।মরশুমি সজীব শস্য। বর্ষার বিশেষ তিথিতে ধরা দেয়। বাকী সময় থাকে গভীর জলে। তখন তার মনের তল পাওয়া দুষ্কর। এইসময় সে খায় বিশেষ ধরণের জলজ শ্যাওলা। খেতে খেতে যত বাড়তে থাকে তত সে পুষ্ট ও নধর হয়। রূপে লাবণ্যে থৈ থৈ তার গর্ভিণী যৌবন যেন স্নেহ পদার্থের আধিক্যে ঢলঢল হয়। সেই বিশেষ ধরণের স্নেহপদার্থ বা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সব মাছে থাকেনা তাই বুঝি ইলিশের এত কদর, অনন্য স্বাদ।
হৃদরোগী থেকে ছোট শিশু সকলেই খেতে পারে এই মাছ। ****
আজকাল খোকা ইলিশ বা জাটকা ধরে নেওয়া হয় বলে আগেকার সেই বড় ইলিশের রমরমা নেই অন্ততঃ কলকাতার বাজারে। আর পাওয়া গেলেও তার দাম আকাশছোঁয়া। তাই বলতে ইচ্ছে করে ----
""অধরা এই জলজ শস্য, রূপোলী রঙের রূপসী পোষ্য
খেতেন পিতামহরা তস্য, পরিবেদনা কা কস্য !
খাচ্ছি যদিও চর্ব্যচূষ্য, তবুও অধরা বর্ষাশষ্য ! ""
কিন্তু সেই গঙ্গার ঘাট আর সেই ইলিশের স্বাদ আজ আর অবশিষ্ট নেই । সেটাই বড় কষ্টের। ছোট ছোট মাছগুলিকে ধরে ফেলার নিষেধাজ্ঞা কেউ মানছেনা। গঙ্গার ঘাটগুলিরও সংস্কার প্রয়োজন। নদীর নাব্যতা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তবে কি ইলিশও অবলুপ্তির পথে?
----------------------<----..<--©--●আদ্যনাথ রায় চৌধুরী ●--->
Comments
Post a Comment