323>||--চাওয়া পাওয়া--||
323>||--চাওয়া পাওয়া--||
মানুষ যাচায় তা পায় কি?
জানিনা কেউ পেয়েছে কি না!
আমিতো পাইনি।
আমার চাওয়া ছিল সামান্য একটু,
চেয়ে ছিলাম ফিরে যেতে,
আমার সেই ছোট বেলাতে।
আজো মনেপড়ে,
ফেলেআস সেই দিন গুলি।
সেদিন ছিলনা কোন বাঁধন,
ছিল মা এর শাসন।
ছিলাম পাঁচ ভাই তিন বোন।
মা আর দিদি মিলেই করত শাসন।
মা রান্নাঘর থেকেই পড়াতেন,
আমাদের আট জনকে মা ই করত শাসন।
ছিল একটা লাঠি,
মা কোনদিন মারেননি।
রাত্রে মা যদি বলতেন বাবাকে,
আমাদের কারুর কোন অন্যায়ের কথা,
বাবাই পেটাতেন ওই লাঠি দিয়ে।
পড়তে বসার জন্য খেয়েছি বকা,
ছিলনা এখনের মতন বই এর বোঝা।
এখন শিশুদের দেখে মনে হয়,
সত্যি কি আমরা পড়েছি?
নাকি সকলেই পড়াশুনা শিখেই জন্মেছি?
আমরা খেলতে খেলতে পড়েছি।
আজকালকার শিশুরা কুঁজো হয়ে গেছে,
ওদের পিঠের বইয়ের ভারে।
স্কুলের ব্যাগ তো নয়,
যেন বইয়ের পাহাড় বইছে পিঠে করে।
পুকুরে স্নান ঘন্টা ভর সাঁতার দিয়ে,
পাড়ার বড় দাদার আসতো লাঠি নিয়ে।
আমরাও পারে উঠে দৌড়ে যে যার ঘরে।
স্কুলের টিফিনে কোন বাড়ির পেয়ারা,
কারুর গাছের আম,কারুর জাম,
আম জাম থেকে পেয়ারাতে লোভ বেশি।
নারকেল গাছে চরতাম অনায়াসে,
পাঁচিল ডিংগিয়ে, গাছে চড়ে ফল পারতাম।
স্কুল ছুটির দিনে,ছিপ নিয়ে পুকুরে,
পুটি মাছ,চেলা মাছ,মাঝে মধ্যে পোনা।
হাজারো আনন্দের মধ্যে কাটত দিন,
সেই কই মাছ ধরা পুকুর পাড়ে বর্ষার দিন।
আজকের মতন,
পড়াশুনা নিয়ে,
বাবা মায়ের ছিল না মাথা ব্যাথা।
ছিল মজায় দিন কাটত পুকুরে মাঠে।
আজকের দিনের মতন,
আমরা কখনো পিঠে বইয়ের পাহাড় নিয়ে যায়নি স্কুলে।
আমাদের মা বাবা কখনো আমাদের পড়াশোনার চিন্তায় নিজেদের জীবন
করেননি ব্যতিব্যস্ত।
স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে, চুটিয়ে খেলতাম প্রান খুলে মাঠে।
ফুটবল খেলতাম।
কখনো বাতাবি লেবু দিয়ে,
কখনো কাগজের গোলা পাকিয়ে।
ফুট বল পেয়েছিলাম অনেক পড়ে,
মনে পড়ে ক্লাস ফাইবের পড়ে।
তখন ছিলনা মাঠের অভাব,
প্রত্যেক পাড়ার ছিল আলাদা মাঠ।
আমরা সব ভাই বোনেরা,
একরকম জামা কাপড় পরে মজা পেতাম,
সকলে মিলে পূজোর সময়।
এক রকম হওয়ার আনন্দে।
সন্ধ্যা বেলায় কোনদিন বাবার সাথে,
কোথাও যেতাম আনন্দে,
দেখতাম আকাশে চাঁদ,
ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি,
চাঁদটা ও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।
বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে ছুটতাম।
আজও মনেপরে সেই ছোট বেলার কথা।
সেই রেল গাড়ী চড়া,
কি মজা কি মজা,
ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখতাম,
গাছ পালা গুলো ছুটছে উল্টো দিগে।
তখনকার সেই রেলগাড়ী কুউ ঝিক ঝিক,
রেল গাড়ী চলতো হেলে দুলে ঝিক ঝিক।
সেই মজা বোঝাতে পারবনা ঠিক ঠিক।
আমরা প্রাকৃতিক সাথে জীবন কাটাতাম,
স্কুলের বন্ধুদের সাথে খেল তাম।
আজকের মতন ইন্টারনেটের বন্ধুদের
সাথে নয়।
তেষ্টা পেলে রাস্থার টিউবয়েল জল
খেতাম পেট ভরে,
কই কিছুইতো হতনা সেদিন।
কত সুন্দর থাকতাম।
আমাদের ছোট বেলায় জলের কোন
ফিল্টার দেখিনি।
আমরা আজকের সমস্ত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে জানি এবং নানান ভাবে উপভোগ করি।
মনে পড়ে সেই মহালয়ার দিনে,
ভোর বেলা ঘুমথেকে উঠে,
আমরা বন্ধুরা সকলে মিলে,
ছুটতাম সেই ওই পাড়াতে,
সাহাদের বাড়িতে,
আমাদের বন্ধু বাবলু সাহাদের,
বাড়িতে ছিল রেডিও।
আমরা প্রতি বৎসর যেতাম,
মহালয়া শুনতে।
কিছুদিন পরে আমাদের বাড়িতেও
আসলো রেডিও।
তার অনেক পরে আসল টিভি,
কিন্তু বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করি।
তবে কেন বর্তমানের প্রজন্ম শুধু বইয়ের
বোঝা নিয়ে বেড়ায়?
কেন এতো নামি দামি স্কুলের কদর হয়?
আমরা কেবলে সরকারি স্কুলেই পড়েছি।
আজকের মতন,
স্কুল নিয়ে ছিলনা নাকছিটকিনি।
আজ অনেকেই সরকারি স্কুল পছন্দ করেনা।
বর্তমানের প্রজন্ম যা পারে,
আমরা সবটাই পারি করতে।
কিন্তু আমরা যা পারতাম তা কিন্তু
ওরা পারবেনা।
ওই তাল গাছে,জামগাছে চড়া,
গঙ্গা এপার ওপর হওয়া।
দৌড়ে লাফ দিয়ে উঁচু পাঁচিল পাড় হওয়া।
পার্থক্য শুধু একটি কারনে----
আজকের প্রজন্ম যা দেখছে বা করছে
সবই বই ও ইন্টার নেটের মাধ্যমে।
কিন্তু আমরা যা করেছি সকলি প্রকৃতির
সাথে,প্রকৃতির সঙ্গে মিশে করেছি।
তাইত চাই ফিরে যেতে সেই ছোট বেলাতে।
জানি সেই দিন আর কোনদিন ফিরে
আসবে না ।
বর্তমানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে,
আমাদের সেই ছোট বেলা হারিয়ে গেছে,
আগ্রাসনের গভীর অতলে।
||---anrc--05/05/2018::------------||
||========================||
==========+===============
মানুষ যাচায় তা পায় কি?
জানিনা কেউ পেয়েছে কি না!
আমিতো পাইনি।
আমার চাওয়া ছিল সামান্য একটু,
চেয়ে ছিলাম ফিরে যেতে,
আমার সেই ছোট বেলাতে।
আজো মনেপড়ে,
ফেলেআস সেই দিন গুলি।
সেদিন ছিলনা কোন বাঁধন,
ছিল মা এর শাসন।
ছিলাম পাঁচ ভাই তিন বোন।
মা আর দিদি মিলেই করত শাসন।
মা রান্নাঘর থেকেই পড়াতেন,
আমাদের আট জনকে মা ই করত শাসন।
ছিল একটা লাঠি,
মা কোনদিন মারেননি।
রাত্রে মা যদি বলতেন বাবাকে,
আমাদের কারুর কোন অন্যায়ের কথা,
বাবাই পেটাতেন ওই লাঠি দিয়ে।
পড়তে বসার জন্য খেয়েছি বকা,
ছিলনা এখনের মতন বই এর বোঝা।
এখন শিশুদের দেখে মনে হয়,
সত্যি কি আমরা পড়েছি?
নাকি সকলেই পড়াশুনা শিখেই জন্মেছি?
আমরা খেলতে খেলতে পড়েছি।
আজকালকার শিশুরা কুঁজো হয়ে গেছে,
ওদের পিঠের বইয়ের ভারে।
স্কুলের ব্যাগ তো নয়,
যেন বইয়ের পাহাড় বইছে পিঠে করে।
পুকুরে স্নান ঘন্টা ভর সাঁতার দিয়ে,
পাড়ার বড় দাদার আসতো লাঠি নিয়ে।
আমরাও পারে উঠে দৌড়ে যে যার ঘরে।
স্কুলের টিফিনে কোন বাড়ির পেয়ারা,
কারুর গাছের আম,কারুর জাম,
আম জাম থেকে পেয়ারাতে লোভ বেশি।
নারকেল গাছে চরতাম অনায়াসে,
পাঁচিল ডিংগিয়ে, গাছে চড়ে ফল পারতাম।
স্কুল ছুটির দিনে,ছিপ নিয়ে পুকুরে,
পুটি মাছ,চেলা মাছ,মাঝে মধ্যে পোনা।
হাজারো আনন্দের মধ্যে কাটত দিন,
সেই কই মাছ ধরা পুকুর পাড়ে বর্ষার দিন।
আজকের মতন,
পড়াশুনা নিয়ে,
বাবা মায়ের ছিল না মাথা ব্যাথা।
ছিল মজায় দিন কাটত পুকুরে মাঠে।
আজকের দিনের মতন,
আমরা কখনো পিঠে বইয়ের পাহাড় নিয়ে যায়নি স্কুলে।
আমাদের মা বাবা কখনো আমাদের পড়াশোনার চিন্তায় নিজেদের জীবন
করেননি ব্যতিব্যস্ত।
স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে, চুটিয়ে খেলতাম প্রান খুলে মাঠে।
ফুটবল খেলতাম।
কখনো বাতাবি লেবু দিয়ে,
কখনো কাগজের গোলা পাকিয়ে।
ফুট বল পেয়েছিলাম অনেক পড়ে,
মনে পড়ে ক্লাস ফাইবের পড়ে।
তখন ছিলনা মাঠের অভাব,
প্রত্যেক পাড়ার ছিল আলাদা মাঠ।
আমরা সব ভাই বোনেরা,
একরকম জামা কাপড় পরে মজা পেতাম,
সকলে মিলে পূজোর সময়।
এক রকম হওয়ার আনন্দে।
সন্ধ্যা বেলায় কোনদিন বাবার সাথে,
কোথাও যেতাম আনন্দে,
দেখতাম আকাশে চাঁদ,
ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি,
চাঁদটা ও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে।
বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে ছুটতাম।
আজও মনেপরে সেই ছোট বেলার কথা।
সেই রেল গাড়ী চড়া,
কি মজা কি মজা,
ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখতাম,
গাছ পালা গুলো ছুটছে উল্টো দিগে।
তখনকার সেই রেলগাড়ী কুউ ঝিক ঝিক,
রেল গাড়ী চলতো হেলে দুলে ঝিক ঝিক।
সেই মজা বোঝাতে পারবনা ঠিক ঠিক।
আমরা প্রাকৃতিক সাথে জীবন কাটাতাম,
স্কুলের বন্ধুদের সাথে খেল তাম।
আজকের মতন ইন্টারনেটের বন্ধুদের
সাথে নয়।
তেষ্টা পেলে রাস্থার টিউবয়েল জল
খেতাম পেট ভরে,
কই কিছুইতো হতনা সেদিন।
কত সুন্দর থাকতাম।
আমাদের ছোট বেলায় জলের কোন
ফিল্টার দেখিনি।
আমরা আজকের সমস্ত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে জানি এবং নানান ভাবে উপভোগ করি।
মনে পড়ে সেই মহালয়ার দিনে,
ভোর বেলা ঘুমথেকে উঠে,
আমরা বন্ধুরা সকলে মিলে,
ছুটতাম সেই ওই পাড়াতে,
সাহাদের বাড়িতে,
আমাদের বন্ধু বাবলু সাহাদের,
বাড়িতে ছিল রেডিও।
আমরা প্রতি বৎসর যেতাম,
মহালয়া শুনতে।
কিছুদিন পরে আমাদের বাড়িতেও
আসলো রেডিও।
তার অনেক পরে আসল টিভি,
কিন্তু বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করি।
তবে কেন বর্তমানের প্রজন্ম শুধু বইয়ের
বোঝা নিয়ে বেড়ায়?
কেন এতো নামি দামি স্কুলের কদর হয়?
আমরা কেবলে সরকারি স্কুলেই পড়েছি।
আজকের মতন,
স্কুল নিয়ে ছিলনা নাকছিটকিনি।
আজ অনেকেই সরকারি স্কুল পছন্দ করেনা।
বর্তমানের প্রজন্ম যা পারে,
আমরা সবটাই পারি করতে।
কিন্তু আমরা যা পারতাম তা কিন্তু
ওরা পারবেনা।
ওই তাল গাছে,জামগাছে চড়া,
গঙ্গা এপার ওপর হওয়া।
দৌড়ে লাফ দিয়ে উঁচু পাঁচিল পাড় হওয়া।
পার্থক্য শুধু একটি কারনে----
আজকের প্রজন্ম যা দেখছে বা করছে
সবই বই ও ইন্টার নেটের মাধ্যমে।
কিন্তু আমরা যা করেছি সকলি প্রকৃতির
সাথে,প্রকৃতির সঙ্গে মিশে করেছি।
তাইত চাই ফিরে যেতে সেই ছোট বেলাতে।
জানি সেই দিন আর কোনদিন ফিরে
আসবে না ।
বর্তমানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে,
আমাদের সেই ছোট বেলা হারিয়ে গেছে,
আগ্রাসনের গভীর অতলে।
||---anrc--05/05/2018::------------||
||========================||
==========+===============
Comments
Post a Comment